ভারতের ত্রিপুরায় পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কিছু সশস্ত্র সদস্যের অপতৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়ে তাদের প্রতি মারমুখী আচরণ করে স্থানীয়রা। সূত্রের দাবি, ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি ফেরাতে দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয়রা।
গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ত্রিপুরার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গণ্ডাছড়ার মগপাড়ায় জেএসএস'র তথাকথিত ফরেন এ্যাফেয়ার্সের এক সদস্যর বাড়িতে স্থানীয়রা হামলা করতে যায়। এ খবর পেয়ে গণ্ডাছড়া থানার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে দ্রুত ভারত ছাড়ার নির্দেশনা দিয়ে তারা ফেরত আসে স্থানীয়রা।
জানা যায়, জেএসএস'র কিছু সশস্ত্র সদস্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালিয়ে আবার সেখানে ফিরে যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত অস্ত্রের ঝনঝনানি ও তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে ত্রিপুরার ওই পাহাড়ি জনপদে আতংক ছড়ায়। জেএসএস সন্ত্রাসীদের সাম্প্রতিক আনাগোনায় অতীতের মতো বড় অস্থিতিশীলতা তৈরী করতে পারে বলে তাদের ধারণা। এজন্য ত্রিপুরার গণ্ডাছড়ায় স্থানীয় জনজাতির লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আশ্রিত জেএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে বলে খবর।
হামলার কারণ সম্পর্কে স্থানীয় একজন জানান, আমরা এ অঞ্চলে শান্তিতে বসবাস করছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা জেএসএসের সদস্যরা এখানে দিনদিন অস্থিরতা সৃষ্টি করেই যাচ্ছে। এদের কারণে এ অঞ্চলে অস্ত্র আসছে, অশান্তি হচ্ছে। আমরা সবাই এদের ওপর খুবই ক্ষুদ্ধ। আমরা চাই না তারা এই গণ্ডাছড়ায় থাকুক।
তিনি আরও বলেন, হামলা করতে যাওয়া লোকজন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই সন্ত্রাসী গ্রুপের কোনো সদস্য গণ্ডাছড়ায় বসবাস করতে পারবে না।
সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগে দীঘিনালার নাড়েইছড়িতে জেএসএস সদস্যরা অবৈধ পথে আসা কয়েকজন ভারতীয় ব্যবসায়ীকে আটকিয়ে তাদের সব পণ্যসামগ্রী কেড়ে নেওয়ার ঘটনা থেকে শত্রুতার শুরু। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে স্থানীয় জনগণ জেএসএস'র সদস্য মিন্টু চাকমাকে গণ্ডাছড়ার করল্যাছড়ি বাজার থেকে ধরে তৈচাকমা কালাবিজয় পাড়ায় নিয়ে যায়। তবে স্থানীয় কারবারি এবং ভারত সরকারের সেন্ট্রাল এজেন্সির অনুরোধে পরে মিন্টু চাকমাকে ছেড়ে দেয়।
এদিকে সূত্রের আরও দাবি, সম্প্রতি ভারতের সাথে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ'র সাথে সখ্যতা বেড়েছে এবং দীঘিনালার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সম্যে জেএসএস'র প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে ত্রিপুরার আশ্রয়দানকারীরা। যা পরবর্তীতে জেএসএস সন্ত্রাসীদের প্রতি গণ্ডাছড়ার ওই স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।

-পার্বত্য সময়