রোববার (১০ আগস্ট) ভোরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান বাহিনী উত্তর আরাকানের মংডু ও বুথিডং এলাকায় আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানের ওপর বিমান হামলা চালায়। এই বিমান হামলায় প্রায় ৩০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। খবর আরাকান নিউজ এজেন্সির।
এছাড়া বলা হয়, কমপক্ষে ৭০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা সংকটজনক। হামলায় ৫ জন সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন।
আরাকান নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে- স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সকাল প্রায় ৪টা ৮ মিনিটে মৌংদাওর ফারাওয়াকশং গ্রামের কাছে একটি এএ ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে প্রথম বিমানটি একটি বোমা নিক্ষেপ করে। এরপর দ্বিতীয় বিমান দুটি করে বোমা ফেলে। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় ৫০০ পাউন্ড। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ খুবই প্রবল ছিল।
এএ’র একজন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বোমাগুলো সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, এবং একটি তৃতীয় বোমা কাছাকাছি পড়েছে। বুথিডংয়ের সেওয়িং নিয়ং বিন গ্রামে আরেকটি এএ ব্যাটালিয়নকেও বিমান হামলার লক্ষ্য করা হয়, তবে সেখানে হতাহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
নভেম্বর ২০২৩ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আরাকান আর্মি রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিতে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। এই সংঘাতের মাঝে রোহিঙ্গারা গুরুতর হেনস্থার শিকার হয়েছেন, জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি ও নির্যাতনের মুখে পড়েছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করে যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মিয়ানমার ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর থেকেই অস্থিতিশীল। নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সামরিক শাসন জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠার পর দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করা হয় এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু হয়। তারপর থেকে প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে আছে।

-পার্বত্য সময়