আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনার মধ্যেই মিন অং হ্লাইং থাই বিমান বাহিনীর প্রধান সাকেসান কান্থা-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে আঞ্চলিক ও মানবাধিকার মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের বিমান বাহিনীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনায় মিন অং হ্লাইং তার বাহিনীকে মিয়ানমারের তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ‘স্থায়ী রক্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘সফল’ বলে দাবি করেন।

তবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এমন এক সময়, যখন এর আগের দিনই রাখাইন রাজ্যের পন্নাগ্যুন টাউনশিপে একটি ব্যস্ত বাজারে জান্তার যুদ্ধবিমান হামলার খবর আসে। আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন- যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। ফলে থাই সামরিক প্রতিনিধিদলের এই সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সফরকালে থাই বিমান বাহিনী প্রধানকে ইয়াঙ্গুনের মিঙ্গালাডন বিমানঘাঁটিতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি নেপিদোতে গিয়ে জান্তা বিমান বাহিনীর প্রধান টুন অংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। জান্তা কর্তৃপক্ষ পুরো সফরটিকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারের জান্তা ক্রমেই আকাশশক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মিন অং হ্লাইং বারবার তার বিমান বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে আসছেন- বিশেষ করে সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের ক্ষেত্রে। এই প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ডের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।