নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
শপথ গ্রহণের সময় এক হাত উন্মুক্ত রেখে অপর হাত পবিত্র কোরআনের ওপর রাখেন মামদানি। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তাকে শপথ পাঠ করান। এ সময় তার স্ত্রী রামা দুয়াজি উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের পর মামদানি সাংবাদিকদের বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সিটি হলের বাইরে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠানেও তিনি পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেবেন। এতে প্রায় চার হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বামপন্থী দুই রাজনীতিক- সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ।
মামদানির দপ্তর জানায়, প্রাথমিক শপথের জন্য সিটি হলের নিচে অবস্থিত একটি সাধারণ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে, যা কর্মজীবী মানুষের প্রতি তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতীক। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভাড়া স্থগিত, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর আগেও তুলনামূলকভাবে অচেনা থাকা মামদানি তার উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইনের মতে, নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকি রাজনীতির চেয়ে বাস্তব ফলাফলই ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মামদানির রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প তার বিরোধিতা করলেও পরে দুজনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়। তবে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রশ্নে ভবিষ্যতে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রচারে মামদানি অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, শপথ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত দুটি পবিত্র কোরআনের একটি মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ থেকে নেওয়া, অপরটি লেখক ও ইতিহাসবিদ আরতুরো শোমবার্গের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।


