১৯৫২ সালের পর এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে রিখটার স্কেলের ৮.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপদ্বীপ এবং সংলগ্ন জাপান। ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ে উচ্চতার দিক থেকে প্রায় ১৩ ফুট বা ৪ মিটার পর্যন্ত পৌঁছানো বিশাল সুনামি।
রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-এর বরাতে জানা গেছে, কামচাটকা ও সেরগেই লেবেদেব অঞ্চলে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ১০ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত। উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকে জানায়, ভূমিকম্পের কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনামির প্রথম ঢেউ উত্তর জাপানের উপকূলে পৌঁছায়। যদিও সেগুলোর উচ্চতা ছিল মাত্র ১ ফুট, তবে হোক্কাইডোর উত্তরাঞ্চলে ঢেউয়ের তীব্রতা ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ শুরুতে জাপানের উত্তর ও পূর্ব উপকূলে ৩ মিটার উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছিল। পরে সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াকাইয়ামা উপকূল পর্যন্ত।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল রাশিয়ার পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাৎস্কি শহর থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, ভূমি থেকে ১৯.৩ কিলোমিটার গভীরে, আভাচা বে শহরের কাছে—এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)।
ভূমিকম্পের সময় রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কেঁপে ওঠে বিল্ডিং, দুলে ওঠে গাড়ি, অনেক বাসায় আলমারি ও আয়না ভেঙে পড়ে। এমন দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পবিদ শিনিচি সাকাই এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হয়, তবে তা জাপানে বিধ্বংসী সুনামি আনতে পারে। এবার তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে রাশিয়া, জাপান, হাওয়াইসহ প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন উপকূলে আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যে “বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ” আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে গুয়াম ও মাইক্রোনেশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপপুঞ্জগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সেভেরো-কুরিলস্ক শহরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। উপকূলীয় শহরগুলোর পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া ও জাপান উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ।
-পার্বত্য সময়


