ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে এক অভিনব রণকৌশল অবলম্বন করেছে ইরান। সাম্প্রতিক এক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের একটি 'ড্রোনশিপ' ধ্বংস করার দাবি করে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করলেও, পরবর্তীতে জানা গেছে সেটি ছিল নিছক একটি ত্রিমাত্রিক (3D) ডামি বা নকল টার্গেট। ইরানের এই 'ছায়া যুদ্ধের' মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েল ও আমেরিকার মূল্যবান মিসাইলগুলো অপচয় করা।

কী ঘটেছিল?
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের বুকে একটি ড্রোনবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু ভিডিয়োটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। দেখা গেছে, মিসাইল হামলার আগে বা পরে জাহাজটি কোনো নড়াচড়া করেনি এবং আঘাতের পর এটি যেভাবে ভেঙে পড়ার কথা ছিল, তাও ঘটেনি। এটি স্পষ্টতই একটি 'থ্রি-ডি মকআপ' বা ডামি জাহাজ ছিল।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সামরিক ঘাঁটি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশেপাশে এমন শত শত নকল বা ডামি টার্গেট বসিয়ে রেখেছে। যখন ইসরায়েল বা আমেরিকা ড্রোন বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এসব লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে আক্রমণ চালায়, তখন আসলে তারা ধ্বংস করছে সস্তা কাঠ বা প্লাস্টিকের তৈরি কিছু খেলনা সদৃশ কাঠামো।

এই কৌশলের ফলে অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে পশ্চিমারা। ইসরায়েলি বা মার্কিন বাহিনী যে একটি ইন্টারসেপ্টর বা গাইডড মিসাইল ব্যবহার করে, তার একেকটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার (কয়েক কোটি টাকা)। অথচ ইরানের তৈরি সেই নকল লক্ষ্যবস্তুগুলোর দাম মাত্র কয়েক হাজার টাকা। এভাবে ইরান কার্যত যুদ্ধ না করেই শত্রুপক্ষের কোটি কোটি ডলারের আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার শূন্য করে দিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে কেবল অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং কে কাকে বেশি বিভ্রান্ত করতে পারে- সেটিই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান তাদের সীমিত বাজেটের বিপরীতে আমেরিকার বিশাল বাজেটের মিসাইলগুলোকে 'ভুয়া লক্ষ্যবস্তু'তে ব্যবহার করতে বাধ্য করে একটি কৌশলগত সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই 'ড্রোনশিপ' ডামি হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।