মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যুদ্ধের দক্ষতার অভাব, দুর্বল প্রশিক্ষণ এবং মনোবলের ঘাটতির কারণে প্রতিটি সংঘর্ষে আরাকান আর্মির কাছে পরাজিত হচ্ছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিয়াও কিয়াও থেট ছিলেন ‘লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ৯৯’-এর অধীনে গঠিত এবং মান্দালয় অঞ্চলের ইয়ামেথিন শহরে অবস্থিত ‘স্ট্র্যাটেজিক টিম ৯৯২’-এর অধিনায়ক। গত ৩১ জানুয়ারি মাগওয়ে অঞ্চলের এনগাপে টাউনশিপে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি এবং তার ৩৬০ জনের বেশি সেনা আত্মসমর্পণ করেন।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতীকে নিশ্চিত করেছেন যে আত্মসমর্পণের ভিডিও ফুটেজটি খিট থিট মিডিয়া থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে এবং এটি আসল।
জানা গেছে, প্রশিক্ষণ শেষে কিয়াও কিয়াও থেটের নেতৃত্বাধীন ‘স্ট্র্যাটেজিক টিম ৯৯২’ রাখাইন রাজ্যের অ্যান টাউনশিপের সীমান্তবর্তী এলাকায় যায়। সেখানে পৌঁছানোর দুই দিনের মধ্যে আরাকান আর্মি আকস্মিক হামলা চালায়, যাতে জান্তা বাহিনী প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘ সংঘর্ষে মিয়ানমারের সেনাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাথমিক ধাক্কায় অন্তত ১০০ সৈন্য নিহত ও শতাধিক আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে, যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
৩১ জানুয়ারি গোতে সি ইয়ো গ্রামে সেনাবাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিয়াও কিয়াও থেট আহত হন। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া তার ইউনিট পরবর্তীতে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। আলোচনার পর তারা আত্মসমর্পণ করে, যা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান দুর্বলতার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।
জান্তা অফিসার কিয়াও কিয়াও থেট বলেন, “৩১ জানুয়ারি গোতে সি ইয়ো গ্রামে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় আমাদের বাহিনীর ছোড়া কামানের গোলার আঘাতে আমি আহত হই। আমাদের বাহিনী তখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। আমি প্রায় ২০ জন সৈন্যের সঙ্গে ছিলাম। পরে আমি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তারা আমাকে শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করতে বলে। শেষ পর্যন্ত আমরা আত্মসমর্পণ করি।”

-পার্বত্য সময়