মিয়ানমারে ৩ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছে সামরিক জান্তা সরকার। পাশাপাশি ৫ হাজার ৫৮০ জনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ প্রত্যাহারেরও ঘোষণা এসেছে। বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ তথ্যকে পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের আগে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল বলে আখ্যা দিচ্ছেন। খবর- এপি ও নিক্কেই এশিয়া।
তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন- অং সান সু চি এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় আছেন কি না, সে বিষয়ে সামরিক সরকার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি কার্যত অজ্ঞাত স্থানে বন্দি। ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী এই নেত্রী বর্তমানে নানা অভিযোগে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন প্রস্তুতকারী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শান্তি কমিশন সামরিকবিরোধী বক্তব্য ও মতপ্রকাশের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া ৩,০৮৫ জন রাজবন্দির সাজা মওকুফ করেছে। দণ্ডবিধির ৫০৫(এ) ধারায় দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল- উস্কানিমূলক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি।
এ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যায়। জান্তা সরকার অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমাতে ব্যাপকভাবে এই ধারা ব্যবহার করে আসছে।
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও, বন্দিরা ঠিক কবে মুক্ত হবেন তা উল্লেখ করা হয়নি। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ঘোষণার পরপরই ৭২৪ জনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে; পুনরায় অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের আগের সাজাও বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পৃথক আরেক ঘোষণায় জান্তা সরকার জানিয়েছে, ৫,৫৮০ জনের মামলাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে। যারা আত্মগোপনে আছেন এবং একই অভিযোগে বিচারাধীন, তারাও এ সুবিধা পাবেন।
নির্বাচন সামনে রেখে গণক্ষমার সমালোচনা
রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, জান্তার এ ঘোষণাগুলো মূলত আসন্ন নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার কৌশল। কারণ দেশটিতে স্বাধীন গণমাধ্যম কার্যত নিষিদ্ধ, বিরোধী রাজনীতি দমন-পীড়নের মুখে এবং অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-র প্রায় সব নেতাই কারাগত বা নিখোঁজ।
রাজনৈতিক বন্দিদের তথ্য-নজরদারি করা স্বাধীন সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (AAPP)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২২,৭০৮ জন রাজনৈতিক বন্দি মিয়ানমারের কারাগারে আটকা।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। নাগরিক আন্দোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিরোধ বাহিনী সশস্ত্র লড়াই শুরু করলে পুরো দেশ ব্যাপক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।


