সামরিক বাহিনী পরিচালিত আসন্ন নির্বাচন ‘বিঘ্নিত’ করার অভিযোগে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দেশটির সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন- এই আইন মূলত ভিন্নমত দমন এবং বিরোধী কণ্ঠ রোধের উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে জান্তা সরকার। তারা একে ‘জাতীয় পুনর্মিলনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে বাস্তবতা হলো, বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বড় একটি অংশে এই নির্বাচন কার্যত আয়োজন করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট মূলত সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার কৌশল, যার কোনো গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আসন্ন নির্বাচনকে ‘বাধা, বিঘ্ন ও ধ্বংস’ থেকে রক্ষা করার নামে চলতি বছরের জুলাই মাসে একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করে জান্তা সরকার। ওই আইনে কেউ নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করলে বা নির্বাচনবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নিলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জান্তা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টুন টুন নাউং জানান, আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার চেষ্টার অভিযোগে মোট ২২৯ জনের বিরুদ্ধে এই আইনের আওতায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই আইনের মাধ্যমে জান্তা সরকার রাজনৈতিক বিরোধী, গণতন্ত্রকামী কর্মী ও নাগরিক সমাজের কণ্ঠ আরও কঠোরভাবে দমন করতে যাচ্ছে।


