এক দশক পর মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ ও নেপিদো।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদ সফররত মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই অঙ্গীকার করা হয়।
বৈঠকে ধর্মীয় ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দি ট্রিবিউন এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করে। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারে সম্মত হন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের আগে ইসহাক দার মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হয়নি।
ইসহাক দার জানান, ২০১৫ সালে সর্বশেষ কোনো উচ্চপর্যায়ের মিয়ানমার প্রতিনিধি পাকিস্তান সফর করেছিলেন। এর আগে ২০১২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মিয়ানমার সফর করেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকেই ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যার সূচনা হয়েছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রাথমিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
ইসহাক দার বলেন, টেকসই ও কাঠামোগত সম্পৃক্ততা এবং বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে উভয় দেশের সম্পর্ক আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রয়েছে। পাকিস্তান মিয়ানমারের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করে।
এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমারের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দেশটিতে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
জবাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ে উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ইসহাক দারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল অং সানের নেতৃত্বেই স্বাধীনতার পরপরই দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল।
থান সোয়ে জানান, ২০২৬ সালে পাকিস্তান ও মিয়ানমারের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বহুমুখী ও নতুন ক্ষেত্রভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।


