ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা আট রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। গত ৩ জুলাই এই রোহিঙ্গা দল ম্যানিলায় পৌঁছালে তাদের গ্রহণ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার (৬ জুলাই) এক বিবৃতি দিয়েছে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিএমএ নেটওয়ার্ক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি দেশটিতে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের চতুর্থ দল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপ ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের মানবিক সহায়তা ও ‘উন্মুক্ত দরজা নীতির’ অংশ। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় পরিচালিত ‘কমপ্লিমেন্টারি পাথওয়েজ’ (সিপাথ) কর্মসূচির আওতায় এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ জন রোহিঙ্গা ফিলিপাইনে পুনর্বাসিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিপাথ শুধু নিরাপদ আশ্রয় দেয় না, বরং শিক্ষার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যতে স্বনির্ভর হওয়ার পথ তৈরি করে। আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের এক সদস্য ফিলিপাইন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই সহায়তা আমাদের জন্য শুধু বেঁচে থাকার সুযোগই নয়, একটি সম্মানজনক জীবনেরও দরজা খুলে দিয়েছে।”
ফিলিপাইন সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১৭ সাল থেকে দেশটি একাধিক শরণার্থী প্রবাহকে আশ্রয় দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ান, ইহুদি ও ভিয়েতনামী শরণার্থীরা।
এই আশ্রয় নীতির মাধ্যমে ফিলিপাইন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় একটি নৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সিপাথ কর্মসূচি পরিচালনা করছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের ‘শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষা ইউনিট’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যাদের সহযোগিতায় রয়েছে ইউএনএইচসিআর ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে এ ধরনের শিক্ষাভিত্তিক ও পুনর্বাসনমুখী কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। তবে এর সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথও খোলার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

-পার্বত্য সময়