রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে মস্কো সফরে গেছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সের্গেই শোইগু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। আগামী শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ
মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের এই সফরের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করা। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সফলভাবে বিকশিত হচ্ছে এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ছে। তিনি বলেন, "জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, পরিবহন অবকাঠামো এবং কৃষি খাতে আমাদের সহযোগিতা বাড়ানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।"
রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি মিয়ানমারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দাওয়েইতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন মিশুস্তিন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির নাম উল্লেখ করেননি। আন্দামান সাগরের উপকূলে অবস্থিত দাওয়েই প্রকল্পকে শিল্প, প্রযুক্তি এবং পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাশিয়া-মিয়ানমার সামরিক সহযোগিতা
রাশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানান, "আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ করছি। পূর্ব এশিয়ায় আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মিয়ানমার।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করছে। জান্তা সরকারকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অস্ত্র সরবরাহ ও কৌশলগত সহযোগিতা দিচ্ছে মস্কো।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। মিন অং হ্লেইং চলতি বছর একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছেন, তবে সমালোচকরা এটিকে সামরিক সরকারের জন্য সাজানো নির্বাচন বলে মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক গভীর হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো কড়া নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়িয়ে জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে। তবে এই সফরের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে।

-পার্বত্য সময়