রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকফিউ শহরে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নৌঘাঁটিতে তীব্র লড়াই চলছে। আরাকান আর্মি (এএ) জান্তা বাহিনীর অবস্থান দখলে নিতে হামলা চালাচ্ছে। কিয়াউকফিউ শহরটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে চীনের সহায়তায় নির্মিত তেল ও গ্যাস পাইপলাইন, একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প রয়েছে।
আরাকান আর্মির অগ্রগতি
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, আরাকান আর্মি ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের ১৪টি শহর দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে কিয়াউকফিউ, রাজ্যের রাজধানী সিত্তে এবং মানাউং এখনো জান্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিয়াউকফিউ নৌঘাঁটিতে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি দানইয়াওয়াদি ঘাঁটিতে পুনরায় হামলা শুরু করেছে আরাকান আর্মি। একইসঙ্গে আশেপাশের সামরিক ফাঁড়ি এবং একটি পুলিশ ব্যাটালিয়নেও লড়াই চলছে।
বিমান হামলা ও বাস্তুচ্যুত জনগণ
গত সোমবার ও মঙ্গলবার থেমে থেমে সংঘর্ষ চললেও বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে পুরোদমে যুদ্ধ চলছে। উভয় পক্ষই কামানের গোলা নিক্ষেপ করছে। শহরের বিভিন্ন গ্রাম লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালাচ্ছে, এতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তাউংগুপ টাউনশিপের মা-ই শহরে আশ্রয় নেওয়া সি মাও গ্রামের ৫২ বছর বয়সী উ নিয়ো বলেন, "২০ ফেব্রুয়ারি আমরা অন্যদের সঙ্গে গ্রাম থেকে পালিয়ে আসি। শহরে আশ্রয় নেওয়ার মতো আমাদের কোনো আত্মীয় বা বন্ধু নেই। আমরা আশঙ্কা করছি, লড়াই আরও তীব্র হবে।"
রাখাইনের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নৌঘাঁটির নিকটবর্তী উ কিন, কিয়ান চাই, সাইং চং, সাইং চং ডন, শাউক চাউং, সি মাও, কাত থাবায় ও পিয়া তাই গ্রামে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার জান্তা বাহিনী যুদ্ধবিমান এবং ওয়াই-১২ বিমান ব্যবহার করে গ্রামগুলোতে ৫০০ পাউন্ড বোমা ফেলেছে। গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় বেসামরিক ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
সংঘাতের নেপথ্যে চীনা স্বার্থ
ইরাবতি জানিয়েছে, মিয়ানমারে সশস্ত্র চীনা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়ে জান্তা বাহিনী সম্প্রতি একটি আইন পাস করেছে। মূলত এই আইনের আওতায় চীনের স্বার্থ রক্ষার জন্য বেইজিং বেসরকারি সুরক্ষা সংস্থাগুলোকে মিয়ানমারে মোতায়েন করতে পারবে। আইন পাসের পর থেকেই কিয়াউকফিউ শহরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইন রাজ্যে চলমান এই সংঘাত শুধু জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে চীনের ভূরাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত। কিয়াউকফিউ বন্দর ও পাইপলাইন নিয়ন্ত্রণ রাখাইনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

-পার্বত্য সময়