রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলাকে ত্রুটিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে মিয়ানমার দাবি করে, অনির্ভরযোগ্য ও পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যে ভর করে তৈরি প্রতিবেদন কখনোই সত্য উদঘাটন করতে পারে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইসিজের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।
রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। চলতি সপ্তাহে মামলার শুনানির শুরুতে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আদালতে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মামলায় উপস্থাপিত অনেক তথ্য ও সাক্ষ্য যাচাইযোগ্য নয় এবং এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে তুলে ধরে।
শুক্রবার আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে মিয়ানমার। দেশটির পক্ষে আইনজীবীরা গাম্বিয়ার উত্থাপিত অভিযোগের বিরোধিতা করবেন বলে জানা গেছে। আইসিজেতে এটি এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনো পূর্ণাঙ্গ গণহত্যা মামলার শুনানি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত’ বলে আখ্যায়িত করলেও মিয়ানমার সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


