দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের বিচার শুরু হয়েছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)। দীর্ঘ সময়  ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার শুনানি সোমবার (১২ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

‘বৈশ্বিক আদালত’ হিসেবে পরিচিত আইসিজিতে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়া শুনানি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে কার্যকর হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টানা তিন সপ্তাহ ধরে এই বিচারপর্ব চলবে বলে জানানো হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থা- 'ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার' এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্তৃপক্ষ বলছে, এই বিচার শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ‘গণহত্যা’ কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে, এমন অপরাধের অভিযোগ কীভাবে যাচাই ও প্রমাণ করা যায় এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব- এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহল এই শুনানির দিকে গভীর নজর রাখছে। তাদের মতে, বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুত জীবনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এই বিচারপর্ব ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ওই ঘটনাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইসিজিতে এই বিচার শুরু হওয়াকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।