সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ৭৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন। কাঠের তৈরি একটি নৌকায় চেপে তারা ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে তাদের নামতে দিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রহীন এসব মানুষ সেখানে অবতরণ করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ইন্দোনেশিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান নোভা সূর্যদারু রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) পূর্ব আচেহের পেরিউলাক অঞ্চলে ৪০ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী ও চার শিশুকে নিয়ে একটি কাঠের নৌকা উপকূলে পৌঁছায়। নৌকাটি বিকেলে সমুদ্র সৈকতে পৌঁছালেও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে রোহিঙ্গাদের নামতে দিতে অস্বীকার করেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আলোচনা ও হস্তক্ষেপে রাত ৮টার দিকে তাদের নৌকা থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।
নোভা সূর্যদারু বলেন, “রোহিঙ্গারা ইচ্ছাকৃতভাবে নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, যাতে সেটি আর অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে না পারে। আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাখ্যা করেছি যে নৌকাটি আর চলাচলের উপযোগী নয়। পরে তাদের একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি। মিয়ানমারের বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তারা প্রায়ই নৌকায় চেপে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাড়ি জমান। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসে, যখন সমুদ্র শান্ত থাকে, তখন রোহিঙ্গারা বিপজ্জনক সমুদ্রপথে জীবন বাজি রেখে পালানোর চেষ্টা করেন।
ইন্দোনেশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে দেশটির। চলতি মাসের শুরুতেই ২০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে পৌঁছান। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছিলেন।
রোহিঙ্গা সংকট এখনও বিশ্বের অন্যতম জটিল মানবিক সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে, যার ফলে তারা রাষ্ট্রহীন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হলেও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাদের প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-পার্বত্য সময়


