ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের ‘চিহ্নিত করে’ পশ্চিমবঙ্গকে তাদের হাত থেকে ‘মুক্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে, যেকোনো ভারতীয় নাগরিক যদি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলেন, তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখার দাবি তুলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এ বিষয়ে ‘কঠোর আইন’ প্রণয়নের আবেদন জানাবেন বলেও জানান শুভেন্দু।
গত ২৬ জুলাই, পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “এই দেশে দাঁড়িয়ে কেউ যদি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলে, তাকে যেন ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা সাংবাদিকদের সামনে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ যেন না থাকে।”
তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ৩৭০ ধারা বাতিল, তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, ওয়াকফ সংশোধনী বিল এবং এক দেশ এক নির্বাচনের মতো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আপনার হাতেই আরও একটি কঠোর বিল আসুক—যাতে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়।”
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, “পশ্চিমবঙ্গে চারদিকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে পড়েছে। এদের নাম শুধু ভোটার তালিকায় নয়, সমাজের নানা পরতে ঢুকে পড়েছে। এদের একটি জনও রাজ্যের মাটিতে রাখা যাবে না।”
এই বিষয়ে বিজেপি আগামী ১৫ আগস্ট- ভারতের স্বাধীনতা দিবস থেকে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, “যদি বিহারে ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লাখ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি মুসলমান ও রোহিঙ্গার নাম বাদ যাবে।” তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, “ভারতের হিন্দু-মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করতে আমি নিজে গ্যারান্টার থাকবো।”
-পার্বত্য সময়


