ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ছয় বাসিন্দাকে “বাংলাদেশি” পরিচয়ে বেআইনি পুশ–ব্যাক করার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)।
দলটির অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের সোনালি বিবি, সুইটি বিবিসহ আরও কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে “বাংলাদেশি” বলে শনাক্ত করে জোরপূর্বক আসাম হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ–ব্যাক করা হয়েছিল।
এই বিষয়ে ভারতের কলকাতা হাইকোর্টের পর সম্প্রতি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতও রায় দিয়েছেন যে, সোনালি–সুইটিরা ভারতেরই নাগরিক। আদালত ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়— “দেশের নাগরিকদের বিদেশি বা রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা বেআইনি পুশ–ব্যাক ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ফৌজদারি মামলা ও বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।”
দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “এই পুশ–ব্যাক দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন করেছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা প্রয়োজন। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ থেকে শুভেন্দু অধিকারীরা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে অপমান করছেন— এ কারণেই আমরা বলি, তারা বাংলা বিরোধী।”
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র ও মুসলমান বাঙালিদের “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী” আখ্যা দিচ্ছেন, যার ফলে বহু নিরীহ শ্রমিক ও নারী ভারতের ভেতরেই বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বীরভূমের সোনালি বিবি ও সুইটি বিবি দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন এবং পরে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


