পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি ও বাঙালির ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের চেয়ারপার্সন হিন্ডু ওমারু ইব্রাহিম এবং আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত হোসে ফ্রান্সিসকো কালি যাই। সোমবার (১৪ অক্টোবর) ফোরামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের উদ্বেগজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো জুম্ম জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্য ও প্রান্তিককরণের প্রেক্ষাপটে ঘটছে, যারা কয়েক দশক ধরে জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং অঞ্চলে সামরিকীকরণের শিকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ফেসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জুম্ম জনগণকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তা ও অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই, এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণার আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে, আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বাধীনভাবে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে।”
বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘেরও সম্পৃক্ততা থাকা উচিত এবং জাতিসংঘের অধীনে একটি কমিশন গঠন করা প্রয়োজন বলে তারা মতামত দিয়েছেন।

  • -পার্বত্য সময়