ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মানবিক সহায়তার পথ রুদ্ধ করছে দেশটির সামরিক জান্তা। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর শুক্রবার কড়া ভাষায় এ আচরণের নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জানান, বিশেষ করে যেসব অঞ্চল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেসব এলাকায় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অথচ সেখানেই সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ সবচেয়ে বেশি দরকার। এই সংকটের মধ্যে সেনাবাহিনীর নির্দয় আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, ভূমিকম্পের পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সামরিক বাহিনী অন্তত ৫৩টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান ও ড্রোন হামলা, কামানের গোলাবর্ষণ এবং প্যারামোটর ব্যবহার করে আক্রমণ।
শামদাসানি বলেন, “২ এপ্রিল ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও সেনাবাহিনী অন্তত ১৪টি হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে মিথ্যা প্রমাণ করছে।”
সম্প্রতি ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩,১০০ জন। সামরিক জান্তা আশঙ্কা করছে, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিভিন্ন দেশ সাহায্যের হাত বাড়ালেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর রক্তচক্ষুর কারণে কার্যকর ত্রাণ পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে।
চীনা রেডক্রস জানায়, মঙ্গলবার রাতে তাদের ত্রাণবাহী ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সেনাবাহিনী। এই ঘটনা শুধু মানবিক সহায়তাকেই ঝুঁকিতে ফেলেনি, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও চরম লঙ্ঘন বলেই অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা।
--পার্বত্য সময়


