মিয়ানমারের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এই বিবৃতিটি এমন এক সময় এসেছে, যখন সামরিক জান্তার দমন-পীড়ন, সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্থবিরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
‘আরাকান নাও’-এর বরাতে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতার মূল কারণ যেমন নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিতকরণ, দীর্ঘমেয়াদী বাস্তুচ্যুতি ও জাতিগতভাবে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো সমাধান না হলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। মিয়ানমারের সংকটের যে কোনো স্থায়ী সমাধানে তাদের নিরাপত্তা, সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা আবশ্যক।”
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়াগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এ চলমান মামলাগুলো, যেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটের জটিল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্বীকার করেও জানিয়েছে, আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা দরকার। তারা আসিয়ান (ASEAN) সদস্য রাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারসহ অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা নেতাদের যেসব দাবি রয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- পুরোপুরি নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া, আইনি স্বীকৃতি ও নথিভুক্তি, সহিংসতার শিকারদের জন্য ক্ষতিপূরণ, এবং একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে সকল জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন বহু সংকট একসঙ্গে নজর কেড়ে নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবিচল বক্তব্য রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুন করে আশার আলো জাগাচ্ছে।
অনেক রোহিঙ্গা নেতার মতে, এই বার্তাটি কেবল প্রতীকী নয়, এটি আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির একটি বড় সুযোগ, যাতে করে বাস্তব পরিবর্তনের পথ তৈরি হয় এবং মিয়ানমারে সকল জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে।
-পার্বত্য সময়


