বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে যুগান্তকারী অবদান রাখায় সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মিসেস ভ্যালেরি টেইলরকে সম্মানিত করেছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। সম্প্রতি তিনি ব্রিটিশ রাজা চার্লসের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া 'দ্য কিং’স বার্থডে অনার্স ২০২৫’-এ কমান্ডার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (CBE) খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সিআরপির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত থাকা মিসেস জ্যানেট আইরিন ভার্নি ও মি. রজার মাইকেল ভার্নি মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (MBE) খেতাব পেয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সেবায় তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট ভ্যালেরি টেইলর ১৯৬৯ সালে ভলান্টারি সার্ভিস ওভারসিজ (VSO)-এর হয়ে বাংলাদেশে আসেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ছোট মিশন হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন এবং সেখানে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যোগ দেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের অবহেলা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দেখে তিনি নতুন একটি যাত্রা শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত গুদামঘরে মাত্র চারজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী নিয়ে ভ্যালেরি টেইলর ও তাঁর সহকর্মীরা প্রতিষ্ঠা করেন সিআরপি।
সাভারে প্রতিষ্ঠিত সিআরপি বর্তমানে একটি আধুনিক ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পুনর্বাসন হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি কেন্দ্র রয়েছে, যা প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
সাভারের যে এলাকা একসময় ছিল অপরিচিত, আজ সেটিই ‘সিআরপি এলাকা’ নামে পরিচিতি পেয়েছে- এটি ভ্যালেরি টেইলরের অবদানের জীবন্ত সাক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞ ও সেবাগ্রহীতারা মনে করেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং মানবতা, সহমর্মিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
-পার্বত্য সময়


