যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়ে শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হয়েছেন এবং ১১১তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি শহরের একশ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের রেকর্ড ভেঙেছেন। মামদানি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী হিসেবে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে জয় অর্জন করেছেন। ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে মামদানি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ ভোট (৫১ শতাংশ) পান, কুমো ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ ভোট (৩৯ শতাংশ) এবং স্লিওয়া ১৪ হাজার ৬২৬ ভোট (৭.১ শতাংশ) পেয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অফ ইলেকশনস জানিয়েছে, পাঁচ দশকের মধ্যে এবার ভোটার উপস্থিতি সর্বোচ্চ ছিল।

মামদানি জেতার পর সরাসরি সমর্থকদের সামনে ভাষণ না দিলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা গেছে, সাবওয়ে ট্রেনের দরজা খুলছে, এবং তিনি সিটি হলের দিকে যাচ্ছেন।

নিউইয়র্কে ভোট গ্রহণ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছে। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে নাটকীয় মোড় আসে, যখন ট্রাম্প কুমোকে সমর্থন জানান। এর ফলে রিপাবলিকান ভোটারদের কুমোর দিকে ঝোঁক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

মামদানি জেতার পর ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেছেন, কুমোকে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প ও তার দল, কিন্তু তিনি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের সেরা মেয়র হবেন, ট্রাম্পের নয়।

নিউইয়র্কের অভিবাসী এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের সমর্থন পেয়েছেন মামদানি। তিনি তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি ছোট ব্যবসা ও শিশু সেবায় মনোনিবেশ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট পার্টির জনপ্রিয়তার এক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সিতে গভর্নর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলও নিজের শক্তি যাচাই করছে।