মিন অং হ্লাইংয়ের মিয়ানমার: বিদেশে লালগালিচা, দেশে প্রাণঘাতী বাস্তবতা
কূটনৈতিক অঙ্গনে মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেও মিয়ানমারের ভেতরে সামরিক অভিযান ও সংঘাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে।
আমাদের পার্বত্য সময় স্পেশাল বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ, গভীর প্রতিবেদন এবং এক্সক্লুসিভ কভারেজের সাথে আপডেট থাকুন। বর্তমানে এই বিভাগে মোট ৪৫ টি সংবাদ রয়েছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেও মিয়ানমারের ভেতরে সামরিক অভিযান ও সংঘাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে।
বাঁচার আশায় নাফ নদী পেরোতে চেয়েছিলেন হাজারো রোহিঙ্গা। কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪ সেই নদী হয়ে ওঠে রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষী।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের এক দশকের বেশি সময় পরও বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে ভূমি ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত জটিলতা রয়ে গেছে।
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের কারণে ভারতের কৌশলগত কালাদান প্রকল্প দেড় দশকেও পূর্ণ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
রাখাইনে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়েছে।
রাখাইনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর রোহিঙ্গাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি, বরং সমুদ্রপথে পালাতে গিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনা।
খাগড়াছড়ির রামগড়ে ১৯৮৬ সালের পাতাছড়া গণহত্যার ৪০ বছর পূর্তিতেও সরকারি স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের পরিবাররা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে জেএসএস ও ইউপিডিএফের শীর্ষ নেতাদের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পানছড়িতে তিন সংগঠনকর্মী হত্যার ঘটনার আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাস ও মানবাধিকার প্রতিবেদনের রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়।
গত ২৮ জুন বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন অত্যন্ত দুর্গম রেতলাং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএফ) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত)-এর একটি যৌথ গোপন আস্তানায় হানা প্রমাণ করে পাহাড়ের শান্তি বিনষ্টকারী শক্তিগুলো এখন একজোট হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সরকারের দাবির বিপরীতে জেএসএস বলছে দুই-তৃতীয়াংশ ধারাই এখনো বাস্তবায়িত।
বাস্তুচ্যুতির প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া, বর্ষায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনজীবনে ক্রমবর্ধমান চাপে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।
শেরপুরের গারো পাহাড়সংলগ্ন ১২ থেকে ১৫টি গ্রামের শতাধিক পরিবার প্রাকৃতিক চারণভূমিকে কাজে লাগিয়ে কম খরচে দেশি গরু পালনকে প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নম্বর ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান নিয়োগ সেই চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মিয়ানমারের পালেতওয়া অঞ্চলে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর গড়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন 'খুমি পিপলস ফোর্স' বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে এবং বিজিবির কাছে সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বজুড়ে সুদান, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের সংঘাত শরণার্থী সংকটকে আরও গভীর করেছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাস্তুচ্যুতি সামান্য কমলেও (প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস) সংকট এখনো তীব্র রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পোশাক সহায়তা, সৌর আলো, নিরাপদ শৌচাগার ও নারী-বান্ধব কেন্দ্রের মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো।
রাষ্ট্রীয় অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো ‘আদিবাসী’ নয়, বরং ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী’ রয়েছে-যারা দেশের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার ভোগ করে এবং জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই তা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠছে। মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আশ্রয় দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।